আসাদুল্লাহ কাহাফ এর পোস্ট থেকে কপিকৃত!!
মাত্রা কাকে বলে? ছন্দ কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ অক্ষর উচ্চারণের কাল পরিমাপকে মাত্রা বলে।
ছন্দ মূলত তিন প্রকারঃযথা- ১/ স্বরবৃত্ত২/মাত্রাবৃত্ত ও৩/অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
০১/ স্বরবৃত্ত ছন্দঃ যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি এক মাত্রায় গণনা করা হয় এবং প্রত্যেক পর্বের প্রথম শব্দের আদিতে শ্বাসাঘাত পরে তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে।যেমনঃ
যেদিন অামি হারিয়ে যাব,বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে--
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
ছবি আমার বুকে বেঁধে
পাগল হ'য়ে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মরু কানন গিরি,
সাগর আকাশ বাতাস চিরি'
যেদিন আমায় খুঁজবে--
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
(স্বরবৃত্ত ছন্দ)
---- কাজী নজরুল ইসলাম
০২/মাত্রাবৃত্ত ছন্দঃ যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি দুই মাত্রায় গণনা করা হয় এবং বিশিষ্ট ভঙ্গীতে উচ্চারিত হয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।যেমনঃ
সোনার তরী,জীবন বন্দনা,কবর,পাজ্ঞেরী,আঠারো বছর বয়স কবিতাগুলো এ ছন্দে রচিত।উদাহরণঃ
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের দলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।ছন্দমিল-৬+৬+৬+২।
বন্ধু গো,আর বলিতে পারি না,বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া খেপিয়া গিয়াছি,তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত- লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক'মাথায়,বন্ধু,বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও,বন্ধু,যাহারা আছ সুখে! -মাত্রাবৃত্ত ছন্দ।
(কবি কাজী নজরুল ইসলামের" আমার কৈফিয়ৎ" কবিতার অংশ বিশেষ)
০৩/ অক্ষরবৃত্ত ছন্দঃ যে ছন্দে শব্দের প্রথমে ও মধ্যে যুগ্মধ্বনি থাকলে সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক মাত্রায় এবং আদিতে থাকলে দুই মাত্রা ধরা হয় তাকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলে।এই ছন্দ বহু রূপে লিখা যায়।যেমনঃ একপদী,ত্রিপদী,সনেট ইত্যাদি।যেমনঃ
(অক্ষরবৃত্ত ছন্দ >ত্রিপদি)
রাজনীতি
আসাদুল্লা কাহাফ
এই রাজনীতি ওই রাজনীতি
তফাত যে কত স্মৃতি,
ভীৎ নড়ে যার সংশয় হাজার
মানবে নেই যে প্রীতি!
আপনারা মুখে তারা তো হৃদয়ে
করেছেন সবি জয়,
স্বার্থের নীতি নিঃস্বার্থ প্রীতি
এক নয়; এক নয়।
নিজ সন্তান টিকে বংশদান
অর্থের সে রাজনীতি,
করি উপহাস দেখ ইতিহাস
দেখ তাঁদের প্রগতি!
কাঁদেন আপনে স্বার্থ বিহনে
কি দিলেন সমাজকে?
নিজ ভাগ থেকে কি দিলেন তাকে
দুর্নীতির দেশটাকে?
বিদ্রোহের দানা গড়ছে অজানা
দেখুন পলক খুলে,
আপন স্বার্থ অন্যের পরার্থ
রয় খেয়ালের ভুলে।
সুন্দর খাদ্য অর্থের ঔদার্য্য
বুঝেন জগৎবাসী,
আত্ম প্রতিষ্ঠা নিথর নিষ্ঠা
যদিও সে দাসদাসি।
জালচুরি করে গেলেন তো মরে
থাকলে পরে কবরে,
সন্তানাদিরা বুঝে নিবে তারা
সম্পত্তি ভাগ করে!
এই রাজনীতি নাই করে প্রীতি
সত্যের সন্ধানে আসো,
এই যে পৃথিবী আমার মিনতি
মানুষকে ভালোবাসো।
রচনাকালঃ জানুয়ারী'০৬
সনেট--
নারী
আসাদুল্লা কাহাফ
জগৎ জননী বশে দাঁড়ায় পুরুষ,
একের বিরোধিতায় অন্যে হারা হুঁশ!
সাময়িকে অধিকার করে তারা খর্ব,
একে অন্যকে হারিয়ে করে তারা গর্ব।
নানান বৈষম্য গড়ে চলছে সমাজ,
সমতা নেই কোথাও-এ সংসারে আজ!
প্রতিযোগিতা রয়েছে সহযোগিতা কৈ?
প্রতিহিংসায় মত্ত -ভালোবাসা নেই!
পুরুষই কাপুরুষ তলিয়ে দেখোনা,
ভাসিয়ে দিয়েছে আছে যতই বঞ্চনা।
পুরুষ যেখানে পশু-নারীরা লাঞ্ছিত,
নারী যেখানে পুরুষ-পুরুষ বঞ্চিত!
ভগিনী, মাতা সমাজে সেই-ই সংসারী,
পুরুষ বিহনে-জন্মে কী কখনো নারী?
রচনাকালঃ ১ মার্চ ২০১২ইং
বড়স্টেশন,যমুনা রোড,চাঁদপুর।
সনেট বিষয়ে টুকিটাকিঃ
৮+৬ প্রতি পংক্তিতে রয়,
দু'পর্ব মিলে একটি চরণ হয়।
১ম স্তবকে উপস্থাপনা হয়,
২য়তে সমাধানের চেষ্টা রয়।
নেতা
আসাদুল্লা কাহাফ
( সনেট )
লেবাসধারী শয়তান কােকর মুখে কুহুতান,
আপসোস ওহে পৃথিবী কবে হবে এ পরিত্রাণ?
হৃদয় নিংড়ানো ভাসন পদ মর্যাদা লোভী লোক
জনসেবা কী করবে সে মস্ত এক প্রতারক!
ঘুম পাড়ানির যে মাসিপিসির গান শোনায় সে,
জনতা বিপাকে রহিত পাইনি কিছু আর শেষে।
জুজু বুড়ির কাহিনীর সমাপ্তি আর হবে কবে?
এমনি ভন্ডামীর ছলে লোক সম্মুখে চলে ভবে।
মুখোশধারীর মুখোশে কি দোষ আছে এ ধরায়?
দোষ হলো তার যে তারে এরূপ মুখোশ পরায়।
ন্যায় নীতি মানবতার সে গায় উন্মোক্ত গান,
কিংকর্তব্যবিমূঢ় নেতা-জনতা যার হয় প্রাণ!
জগৎ জুড়ে এমনই করে চলে ভেলকিবাজি,
হাচামিছা সাজছে তারা ভন্ড শহিদ আর গাজি!
রচনাকালঃ ২৬ এপ্রিল ২০১২ইং
বড়স্টেশন(যমুনা রোড),চাঁদপুর।
সনেট সম্পর্কে আরো কিছু তথ্যঃ
সনেট কবিতা লেখায়-১৪ অক্ষর এবং ১৮ অক্ষর উভয়ই নিয়ম রয়েছে।তবে ১৪ অক্ষরের সনেট বাংলায় অধিক প্রচলিত।বাংলায় সনেটের জনকেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম মানার অপারগতা দেখা যায়।
প্রেমের ছন্দ গুলো পড়ে ভালো লাগলো ধন্যবাদ।
ReplyDelete