Friday, January 18, 2019

মজদুরের মজুরি

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে বঞ্চনার নানান কাহিনী। পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্যে আজও বন্দী আমাদের সমাজের শ্রমজীবীরা।
 যাই হোক এবার মূল আলোচনায় ফিরে আসি, আপনারা লক্ষ্য করে থাকেন যে, গ্রামে ও শহরে বড় বড় দোকানগুলোতে দোকানির সহায়ক হিসেবে একজন বা দু'জন অল্পবয়সী শিশু কিশোরেরা কর্মব্যস্ত দিনভর। এই শিশু কিশোররা খুব সকালে এসে গন্তব্যে ফিরে রাত ৯ টা কিংবা ১০ টায়। এরা অনেকেই বিরতিহীনভাবে কাজ করে। ওরা  তাদের বয়সের তুলনায় বেশি ওজন মাথায় বহন করে। দোকানিরা কখনো এদের একবেলা, আবার কখনো দু'বেলা খেতে দেন। তবে অধিকাংশই একবেলা খাবার পেয়ে থাকে। আপনি জেনে আশ্চর্য হয়ে যাবেন দিন শেষে বা মাস শেষে ওরা কত টাকা পারিশ্রমিক পায়! পূর্ণবয়স্ক একজন শ্রমিকের মত কাজ করে তারা। কিন্তু মজুরীর পাই নামে মাত্র, দুই থেকে তিন হাজার টাকা।

যান্ত্রিক বিশ্বদর্শনের কাছে এগুলো নিয়ে ভাববার সময় নেই হয়তো কারো কাছেই। তবুও অবচেতন মনে, কেন জানিনা এইসব কথা ঘুরপাক খেতে থাকে। কেন এই শোষণ বঞ্চনা?  আর কতদিন এভাবে তারা শোষিত হবে! বিষয়টা জাতির জন্য মোটেও সুখকর হবে না।বরং এভাবে চলতে থাকলে পিছিয়ে পড়বে জাতির একটা বড় অংশ। বৈষম্য বাড়বে ধনী গরীবের।

নিন্মবিত্তকে এই বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে না পারলে সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। উন্নত জাতির তালিকায় আদৌও পৌঁছাতে পারবো কি আমরা? এমন অনেক প্রশ্নে প্রশ্নবিদ্ধ জাতির উন্নয়নের জন্য কেউ এগিয়ে আসবেনা? তবে কি আমরা কখনোই উন্নত জাতির তালিকায় স্থান পাবোনা?

No comments:

Post a Comment