পৃথিবী সত্যিই অদ্ভুত রহস্যে ঘেরা! এর প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকে অজানা রহস্য কত!
চেনা পথে চলতে গিয়েঃ
আজ থেকে প্রায় মাস ষোলো(১৬) আগের কথা। নিয়তির কাছে পরাজিত হয়ে বাড়ি ফিরছি বিষণ্ণ ভারাক্রান্ত মনে! সঙ্গে অনেক লাগেজ ব্যাগ ও তল্পিতল্পা যা ছিল সব নিয়ে উঠে বসলাম বাসে। বি:দ্র: বিভিন্ন কারণে রাস্তা ও বাসের নাম উল্লেখ করলাম না!
যাইহোক, বাস চলছে দারুণ গতিতে। আমি বসে আছি অজানা অনেক প্রশ্ন ও এক আকাশ চিন্তাভাবনা নিয়ে। ক্ষণে ক্ষণে পাশফিরে দেখছি লাগেজ ও ব্যাগ গুলো ঠিক আছে কি'না! যতক্ষণ দেখেছি সব ঠিকই ছিলো।
কিন্তু হঠাৎ গন্তব্যস্থলের ১০কি:মি: আগে ব্যাগ ও লাগেজ গুলো ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। দাঁড়িয়ে দেখি একটা ডাবল ফোল্ডিং ব্যাগ নেই! বাসের কন্ডাকটর সুপারভাইজার এবং যাত্রীদের কাছে আকুতি মিনতি করলাম যে যদি কেউ ব্যাগটা নিয়ে থাকে তবে যেন দিয়ে দেয়। কারন ব্যাগটির মধ্যে অনেকদামী কিছু নথিপত্র ও প্রিয় মানুষের দেওয়া বেশকিছু স্মৃতি জড়িত জিনিস ছিলো। এছাড়াও একটা এ্যানড্রয়েড মোবাইল ও অন্যান্য অনেক কিছু।
আমার সকল আকুতি মিনতি কারো হৃদয়স্পর্শী হলো না! হতম্ভব হয়ে গেলাম আমি। ঐ বাসের নম্বর এবং সুপারভাইজার সহ প্রয়োজনীয় সকলের ফোন নম্বর নিলাম আর বললাম ব্যাগটা যদি কেউ পেয়ে থাকে তবে সবকিছু নিয়ে শুধু নথিপত্র গুলো দিলেই হবে।
এভাবে আরও অনেককিছু বলে বিদায় নিতে হলো কারন দূরপাল্লার বাস আমার একার জন্য কেউ দেরি করতে চাইনি।
আজ ষোলো(১৬) মাস পরে এক বন্ধুবর ছোট ভাইয়ের জন্য হঠাৎ ঐ পথে যেতে হলো না করতে পারলাম না। গন্তব্যে গিয়ে কাজ সেরে ফেরার পথে দৌড়ে বাসে উঠলাম। সেই বাসে যে বাসে ব্যাগটা হারিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো সেই কথা আমার সঙ্গে থাকা ছোট ভাইটাকে বললাম এই বাস থেকে আমার ব্যাগ হারিয়ে ছিলো। কথাটি শেষ হতে না হতেই সেই সুপারভাইজার ভাইটি সামনে হাজির। যথারীতি আমি বললাম ভাই কেমন আছেন আরও বললাম আমায় চিনতে পেরেছেন। ঐ যে আপনাদের গাড়ি থেকে আমার ব্যাগটা হারিয়ে ছিলো। তিনিও আমাকে চিনতে পারলেন অনেক কথা হলো। তার অনেক কথার মাঝে দু'টো কথা আমার অনেক প্রশ্নের দিয়ে দিলো বহুদিন পর! আমি বললাম আপনার সাথে আরেক ভাই ছিলো লম্বা ও ফর্সা রঙের। তিনি উত্তরে বললেন গাড়িটি দূর্ঘটনায় পড়েছিলো আর ঐ দূর্ঘটনায় ফর্সা লম্বা তখভাইটার পা ভেঙ্গে গেছে আজও সুস্থ হয়নি। তিনি তার গালে হাত দিয়ে দেখালেন ঐ দূর্ঘটনায় তার মুখের কেটে যাওয়া একটি বেশ বড় ক্ষত।দেখাতে দেখাতে আরও বললেন গরীবের ঘরে জন্ম নেওয়া পাপ। অল্প কিছুতেই লোভ হয়ে যায়! মুখে এক মায়াবী ও করুণ ছবি ফুটে উঠলো। আরো অনেক কথা বললেন যা বলা সমীচীন মনে করছি না।
সবশেষে যাওয়ার সময় তিনি বললেন আপনারা চাকরিজীবি মানুষ অনেক টাকা আয় করেন....... ইত্যাদি ইত্যাদি। ঠিক তখনি আমি অজ্ঞাতসারে বলে ফেললাম যে আপনারা যদি কোন ভুল করে থাকেন তবে আমি ক্ষমা করে দিলাম। কারণ তার চোখ ও মুখের অনুশোচনার ছবি আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেল। ঐটুকু আমি না বলে থাকতে পারলাম না।
তাদের বাসের দূর্ঘটনার কারন আমি জানিনা আর তিনিও কিছু বললেন না। তবে মনে হল তার মনের মধ্যে এক গভীর অনুশোচনা কাজ করছিলো!
আজ আবারো মনে হল সময় ও পরিস্থিতির কাছে মানুষ কতটা অসহায় আর নির্দ্বিধায় সত্য প্রকাশে নির্ভয়!
No comments:
Post a Comment