Monday, April 8, 2019

চাকরির ভেরিফিকেশন

আপনি আপনার নিজস্ব মেধা মনন দিয়ে এবং আপনার বাবার সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ ব্যয়ে পড়াশোনা করেন।এরপর বিভিন্ন চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়  নিজস্ব মেধায়, নিজ দক্ষতায় ও যোগ্যতায় নির্বাচিত হন আপনি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বাকি থাকে আপনার চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশন। আর এখানে আপনার ভাগ্যের আসল খেলা শুরু হয়। কারণ আপনার এলাকার বিভিন্ন প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গ উত পেতে থাকে বড় অংকের অর্থ দাবী করার জন্য। আপনি যদি তাদের এ অবৈধ দাবী পূরণ করতে পারেন তবে আপনার ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ভালো হবে। আর যদি তাদের ষোলকলা পূর্ণ না হয় তবে আপনার ভেরিফিকেশন রিপোর্ট যা হওয়ার দরকার তাই হবে। তখন আপনি আপনার ভাগ্যকে গাল মন্দ করেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার জন্য পিতামাতাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে আপনার ও আপনার পরিবারের দোষটা কোথায়? কারণ আপনি ও আপনার পরিবারের সবাই স্বচ্ছতার সহিত জীবন-যাপন করেন। তবে আপনার অপরাধটা কোথায়? আপনি কি তবে বাংলাদেশের নাগরিক নন? এ দায়ভার কেবে নেবে? আর কত তাজা প্রাণ এরকম ঘৃণ্য রোষানলে পড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে!!!

বাস্তবতার নির্মম চিত্র,তবে আমি কাঁদবো না! এই ছাত্র ভাইটির মত এত কষ্ট করিনি হয়তো কোনদিন। কিন্তু জীবনের সাথে সংগ্রাম করেছি নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করার।  হ্যাঁ সে পথে সফলতার দার প্রান্তে পৌছনো হয়নি তবে সেটা নিতান্তই আমার অপরাধ বা দূর্বলতা কি না তা জানি না। তবে কেন জানিনা আজ এই ছাত্র ভাইটির ঘটনাটা পড়ে মনে পড়ে গেল এইতো সেদিনের কথা! ২০১২ সাল সদ্য স্নাতক শেষ করে রেজাল্ট পেয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ হতে। এমনিতেই সেশন জটে অর্নাস এবং মাস্টার্স মিলে চার বছর কেড়ে নেয় সসর্বমোট। যাইহোক বলছিলাম  ২০১২ সালের কথা আমার জীবনের প্রথম চাকরিী পরীক্ষা ছিল এস. আই পদে। যথারীতি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করি১৩/০৭/২০১২, ১৪/০৭/২০১২ও ১৫/০৭/২০১১ পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল রাজশাহী মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। লিখিত পরীক্ষায় কৃতকাজ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য চিঠি আসে। মৌখিক পরীক্ষার তাং ১৬/০২/২০১৩ইং ১০ ঘটিকার সময়। ভাইভা পরীক্ষা দেওয়ার পর শুরু হয় পুলিশ ভেরিফিকেশন।  প্রথমবার যখন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ হতে বাড়িতে পুলিশ আসে এবং বলে আপনি ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আপনার পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হয়েছে এবং তা কয়েক দফায় সম্পন্ন হবে। ইতি মধ্যে গ্রাম্য আওয়ামীলীগ নেতারা বিষয়টা জানতে পেরে আমার পরিবারের নিকট হতে বড় অংকের অর্থ দাবি করে। তারা বলে ভেরিফিকেশনে ভালো রিপোর্ট করে দিবে।  আমার পরিবারের সাম্যর্থ  অনুযায়ী তাদেরকে অর্থ দিতে চাইলে তারা তাতে খুশী হতে  পেরে আমার নামে বিভিন্ন বানোয়াট তথ্য দেয় পুলিশি রিপোর্টের সময়, যেমন আমি বিএনপির সাথে উতপ্রোত ভাবে জড়িত এবং স্থানীয়  বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত ইত্যাদি, ইত্যাদি। যাহোক কয়েক দফা ভেরিফিকেশন হওয়ার পর আর কোন খোঁজ পাইনি ঐ চাকরির বিষয়ে। বি:দ্র: অর্জিত শিক্ষা ও গুরুজনকর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষা,নীতি নৈতিকতা যা মনে আজও লালন করি সেগুলো এই নোংরা রাজনীতি থেকে আজও আমায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে! এটা আমার ব্যর্থতা কিনা আমি তা জানিনা!  আজ ছয় বছর পর এই কথাগুলো বলার কারণ হলো এই ছাত্র ভাইটি যেন আমার মত চাকরির ভেরিফিকেশন হতে বাদ না পড়ে। স্যার আপনি ওকে যেমন ১০০০৳ দিয়ে সহায়তা করেছেন যা খুবই জরুরী ছিল ঠিক তেমনি সে ভাই যদি লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তার ভেরিফিকেশন এর সময় তাকে কোনভাবে সহযোগীতার জন্য চেষ্টা করবেন আশারাখি। আর কেউ যেন এই নোংরামির শিকার না হয় তা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ রইলো। এত নির্মম  সুন্দর বাস্তব এই ঘটনাটা সকলের  সামনে তুলে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ রইলো। শুভকামনা।

No comments:

Post a Comment