আধিপত্য মানে এই নয় যে অন্যের নাম ফলক কালি দিয়ে মুছে ফেলা। বরং আধিপত্য বিস্তার হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে সবার মনে ইতিবাচক স্থান করে নেওয়া।
ন্যায়পরায়ণতা ও ভালোবাসা দিয়ে আর্জনকৃত আধিপত্য চিরকালের জন্য মনের গহীনে ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করে।
বন জঙ্গলের বন্যপ্রাণীগুলোও মানুষের ভালোবাসার কাছে ব্যশতা শিকার করে অবলীলায়। আর সেখানে মানুষ হয়ে মানুষকে একটু সত্যি ভালোবাসা দিলে সে আত্মার পরম আত্মীয়ে পরিণত হবে। এটাই স্বাভাবিক তবে ব্যতিক্রম হতেও পারে। কারন মানুষ হলো সব সৃষ্টি মধ্যে জটিলতম সৃষ্টি।
তবে যাই বলি মানুষের আধিকারিক হলে মানুষ মানুষকে ভালো বাসতে বা ভালোবাসা পেতে বাধ্য।
অধিপতি হয়ে সবার মাথার উপর আবস্থান নিলেও সেখানে লুকানো মানব মনের ঘৃনা কিন্তু তার উপরেই অবস্থান করে। যা অধিপতির স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না।
আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অধিপতি তার ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য এসকল বিষয়কে উপেক্ষা করে চলেন। যেন তার আধিপত্যে চিড় না ধরে। তবে সত্যিই কি তা হয়, হয় না।
ইতিহাস থেকে আমরা জেনেছি মানুষের অধিপতি হয়ে থাকা রাজ রাজারা বা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতরা কখনোই মামুষের মনে ইতিবাচকভাবে অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। কারন একটাই তাদের অনুভবে বিরাজ করতো অধিপতি হওয়ার বাসনা। কখনোই তারা অধিকারিক হয়ে উঠার চিন্তা করেনি।
অধিকারিক হলে তারা সাধারণ মানুষের কাতারে চলো আসতো। এই নিম্ন চিন্তাধারা তাদের কে পৃথক ভাবাতে বাধ্য করে রাখে। মানুষ মানুষের জন্য এই কথাটি দুনিয়ার অধিপতিরা কখনো চিন্তাই করেনি।
এবার আসি আধিকারিক হলে উচ্চ আসনে সমাসীন হওয়ার পরেও তারা সর্বসাধারণের প্রাপ্য অধিকার সুনিশ্চিত করতে সদা তৎপর থাকত। কি,কখন, কিভাবে সর্বসাধারণের উপকারে আসবে তা নিয়ে কাজ করতে মনোনিবেশ করতো।
আধিকারিকরা মানুষের চিন্তা চেতনাকে যথাযথ মূল্যায়ন করলে আধিপত্য বিস্তারের জন্য জোর জবরদস্তি প্রয়োজন হবে না। সর্বসাধারণের মনে এমনিতেই জায়গা করে নিতে পারবে। তখন কোন ব্যক্তি বা বিষয়কে কালির আচড়ে মুছে ফেলার প্রয়োজন হবে না। যে যার স্থানে সমহীমায় স্বস্থানে অবস্থান করতো যুগযুগ ধরে। মানুষের কল্যাণকামী চিরসবুজ ব্যক্তি ও বিষয়গুলো কেউ চাইলেও কোন অবরণে আবরিত করতে পারতো না।
তাই বলি যে অধিপতিরা তার অধীনস্থের আধিকারিক হলে এমনিতেই সকলের মনে ইতিবাচক অবস্থান করে নিতো। কোন আবরণে তা মুছে ফেলার প্রয়োজন হতো না।
ন্যায়-নিষ্ঠতা, নীতিগত শুদ্ধতা অর্জন করলে বড় সাইনবোর্ডে কোনকিছু লিখে বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। আবার অন্যদিকে কারো নাম ফলক বা অন্যকিছুর উপরে কালি দিয়ে মুছে ফেলার প্রয়োজন হবে না।
অধিপতিরা যতদিন আধিকারিক না হবে ততদিন দিন বদলের পালায় কালির আবরণে হারিয়ে যাবে। আর কালির আবরণে চাপা পড়বে এক অধিপতি অন্য অধিপতির দ্বারা। তবে আধিপতিদের মধ্যে যদি কেউ আধিকারিক হয়ে জান তিনি ও তার কর্মকে পৃথিবীর কেউ কালির আবরণে মুছে ফেলতে পারবে না, আবার তা স্বর্ণাক্ষরে লিখা ছাড়াই বিরাজমান থাকবে আবহমান কাল ধরে।
No comments:
Post a Comment